রংপুর নগরীতে জমির মালিকানা ও মন্দিরের দখলকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর জেরে বিজয়া দশমী পেরিয়ে গেলেও একটি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় সড়ক অবরোধ চলে। পুলিশ প্রশাসন গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও বিরোধের সমাধান করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে শোভাযাত্রা থেকে প্রতিমা ফিরিয়ে মন্দিরে রাখা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরীর ঠিকাদারপাড়ায় প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও তাঁদের সমর্থকেরা। একই সময়ে জমির মালিক দশরথ ও তাঁর লোকজনও জমি উদ্ধারের দাবিতে সড়কের অপর পাশে অবস্থান নেন। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্থানীয় বাসিন্দা দশরথের তিন শতক জমিতে মন্দির স্থাপন করে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলতি বছর পূজা উদযাপন কমিটি দুর্গাপূজার পর কালীপ্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে সেখানে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়।
বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় জমির মালিক দশরথ সব প্রতিমা সরিয়ে মন্দির খালি করার দাবি জানান। এ নিয়ে জমির মালিক ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ।
অন্যদিকে, নিজের জমি ফিরে পেতে মন্দির খালি করে সব প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান জমির মালিক দশরথ ও তাঁর লোকজন। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। রাতভর পুলিশ প্রশাসনের মধ্যস্থতার চেষ্টা চললেও কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্টকে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে এখনো সিদ্ধান্তহীনতা ও অচলাবস্থা রয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জন দিতে চান, তবে মন্দির খালি করতে রাজি নন। তাঁরা মন্দিরের দখল ধরে রাখতে চান। অন্যদিকে, জমির মালিকপক্ষের দাবি, মন্দির খালি করে সেখান থেকে সব প্রতিমা সরিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
জি বাংলা ডেস্ক